পিত্তনালীতে পাথর

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 211
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    211
    Shares

পিত্তনালীতে পাথর মোটামুটি একটি জটিল রোগ। পিত্তথলি বা গলব্লাডার এ পাথর সম্ভন্ধে মোটামুটি সবাই জানেন। কিন্তু পিত্তনালীর পাথর সম্পর্কে কম লোকই জানেন, পিত্তনালী হচ্ছে একটি নালী যার মাধ্যমে পিত্ত লিভার ও পিত্তথলি থেকে অন্ত্রে এসে পৌছায়। এই পিত্তনালীতেও পিত্তথলির মত
পাথর হতে পারে, তবে পিত্তনালীতে পাথর হলে সেটি অনেক বেশী জটিলতার সৃষ্টি করে।

পিত্তনালীতে পাথর

উপরের ছবি দেখে মোটামুটি পিত্তনালীতে পাথরের স্বরুপটি বোঝা যায়। যেহেতু পিত্তনালী দিয়ে পিত্ত অন্ত্রে পৌছায়, সেহেতু এখানে পাথর হলে স্বাভাবিক ভাবে পিত্তের প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হবে, আর এই বাধাগ্রস্থ হলেই নানা রকম উপসর্গ দেখা যায়।

লক্ষন:

পিত্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হলে প্রথম যে সমস্যা হয় সেটি হচ্ছে জন্ডিস। একে বলা হয় সার্জিক্যাল জন্ডিস, আমরা ভাইরাস জনিত জন্ডিসের কথা অনেকেই জানি সেগুলো খাবার দাবার বা রক্তের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। আর এই সার্জিক্যাল জন্ডিস হয় পাথর বা অন্য কিছু দিয়ে পিত্ত প্রবাহ বন্ধের মাধ্যমে। জন্ডিস ছাড়াও অন্যান্য যে উপসর্গ গুলো দেখা দেয় সেগুলো হচ্ছে পেটে ব্যাথা, বিশেষত চর্বিজাতীয় খাবার খেলে, সারা শরীরে চুলকানি, মল সাদা হয়ে যাওয়া,প্রশ্রাব হলুদ হয়ে যাওয়া খুদামন্দা হওয়া ইত্যাদি।যথা সময়ে চিকিৎসা না করলে এতে তৈরী হয় জটিলতা, অর্থাৎ ইনফেকশন তৈরী হয়। সেই জটিলতা হচ্ছে পিত্তনালীতে প্রদাহ। এটি বেশ জটিল একটি রোগ যেখানে উচ্চ জ্বর, পেট ব্যাথা বমি ও জন্ডিস আরও গভীর হয়। ইনফেকশন আরও ছড়িয়ে পড়লে লিভারে ফোড়া, ইনফেকশন সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া সহ নানা জীবন সংশয়ী জটিলতা তৈরী হতে পারে। পিত্তনালীর রোগ নির্ণয়ের জন্য একজন চিকিৎসক লক্ষন দেখে প্রাথমিক রোগ নির্ণয় করেন। এর পর আল্ট্রাসনোগ্রাম ইআরসিপি নামক একটি পরীক্ষার সাহায্যে রোগ প্রায় সকল ক্ষেত্রে নির্ণয় করা হয়। পিত্তনালীর পাথরের সাথে পিত্তথলীর পাথরও বিদ্যামান থাকে।

চিকিৎসা:

পিত্তনালীর পাথরের চিকিৎসা হচ্ছে পাথর অপসারন। এই অপসারন দুই প্রকৃয়ায় করা যায় , একটি হচ্ছে অপারেশন ব্যাতীত। অপারেশন ব্যাতীত অপসারনের নাম ইআরসিপি রিম্যুভাল। সংক্ষেপে এই প্রকৃয়া হচ্ছে মুখ দিয়ে একটি নলের মত যন্ত্র ঢুকিয়ে পিত্তনালীর পাথর বের করে নেওয়া। বিষয়টি বর্ণনা সহজ হলেও প্রকৃয়াটি জটিল। এছাড়া একই সাথে পিত্তথলিতে যে পাথর থাকে তা লেপারোস্কোপির সাহায্যে অপারেশন করে বের করতে হয়, চিকিৎসার অপর প্রকৃয়াটি হচ্ছে অপারেশন। এক্ষেত্রে একই সাথে পিত্তনালীর পাথর ও পিত্তথলির পাথর একসাথে অপসারন করা যায়। যেটাই হোক না কেন পিত্তনালীতে পাথর ধরা পড়লে দ্রুতই এর চিকিৎসা নেওয়া উচিৎ, এছাড়া জন্ডিস হলে কিংবা দীর্ঘস্থায়ী পেটে ব্যাথা হলে সেটা দ্রুত পরীক্ষা করে নেওয়া উচিৎ, পিত্তনালীর পাথর নাকি অন্য কিছু। কারন সুস্থ থাকার জন্য সচেতনতাই প্রথম শর্ত।

আরও পড়ুনঃ গলব্লাডারে পাথর।

অধ্যপক ডা: এসএমএ এরফান
বাংলাদেশের পাইয়োনিয়ার কোলোরেকটাল সার্জন
চেম্বার:জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ হসপিটাল
৫৫,সাতমসজিদ রোড,জিগাতলা বাসষ্ট্যান্ড,ধানমন্ডি,ঢাকা
মোবাইল: ০১৬২৬৫৫৫৫১১,০১৮৬৫৫৫৫৫১১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

one × five =