নারীর ভার্জিনিটি!! ….মন দিয়ে পড়বেন সবাই!

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 57
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    57
    Shares

একটা রিসার্চ ফার্মে কাজ করতে গিয়ে ৫০ জন মহিলার সাথে প্রায়ই আমার দেখা হত! সাভারের একটা গ্রামে তারা থাকেন, একটা ছোট সংগঠনে তারা কাজ করেন, তাদের কেউ মানুষের বাসায় কাজ করেন, কেউ গার্মেন্টস এ কাজ করেন, কারো চায়ের টং দোকানে বসেন, কেউ কেউ কৃষি কাজ করেন! একদিন দেখলাম একজন মহিলা খুব কান্নাকাটি করছেন এবং উনার স্বামী উনাকে অনেক মারধর করেছে এবং ডিভোর্স দিয়ে দিয়েছে! আমি জিজ্ঞেস করলাম কেনো ডিভোর্স দিয়েছে, তখন ওই মহিলা বললেন তার হাসবেন্ড ১ বছর ধরে তাকে কথায় কথায় গালাগালি করে, মারধর করে এবং তার চরিত্র নিয়ে কথা বলে কারন প্রথমবার ইন্টারকোর্স (সেক্স) এর সময় ওই মহিলার ব্লিডিং হয়নি এবং এর পরে কখনই না! এরপর বাকিরা একে একে মুখ খুললো, আমি তাদের মেয়ের বয়সী, তারা খুব লজ্জা পাচ্ছিলেন, আমি অনেক কস্টে তাদের নরমাল করলাম! তারপর যা শুনলাম সেটা বলার মতো না ! এটা আমাদের ভদ্র সমাজের খুব পরিচিত একটা কুসংস্কার, ব্লিডিং না হলে মনে করা হয় মেয়েটা ভার্জিন না, চরিত্র ভালোনা! ভাল, একটু যদি বৈজ্ঞানিক ভাবে চিন্তা করি তাহলে কিন্তু সব পানির মত পরিস্কার!

১. ব্লিডিং হবে কি হবে না এটা নির্ভর করে হাইমেন (HYMEN)
নামক একটা পর্দা এর উপর।

২.এই পর্দাটা নারী যৌনাঙ্গ মুখকে ঢেকে রাখে।

৩.কিন্তু কতটুকু কভার করে রাখবে এটা নির্ভর করে একজন নারীর বয়স, উচ্চতা, ওজন এবং শরীরের অনেক কিছুর উপর।

৪. হাইমেন যদি পাতলা হয়, রক্তপাত না হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি,আর মোটা হলে রক্তপাত হতে পার।

৫. অনেক মহিলা এর জন্মগত ভাবেই পর্দা থাকে না, সুতরাং রক্তপাত না হওয়াটাই স্বাভাবিক।

৬. যেসব মেয়েরা সাইকেল চালায়, ব্যায়াম করে, জিমে যায়, অথবা স্কিপিং করে, হাইমেন নামক পর্দা ভেঙে যায়, তাই রক্তপাত হওয়ার সম্ভাবনা নাই!

৭.British Medical Journal এর একটা রিসার্চে বলা হয়েছে ” সারা বিশ্বে ৬৩% মেয়েদের প্রথম বার সেক্সয়ুয়াল ইন্টারকোর্স এ রক্তপাত হয়না।

৮. আরো একটা রিসার্চে বলা হয়েছে, বয়স যত বাড়বে, যাদের পর্দা আছে, সেটা আরো পাতলা হতে থাকে এবং একটা সময় পর্দাটা ফেটে যাবে, তাহলে কিভাবে রক্তপাত হবে যদি পর্দাই না থাকে?

৯. তার মানে দাঁড়ায় একটা ১৫-১৬ বছরের মেয়ের প্রথম বার ইন্টারকোর্স এর সময় রক্তপাত হওয়ার সম্ভাবনা যত বেশি, একটা ২৫-২৬ বছরের মেয়ের রক্তপাত হওয়ার সমম্ভাবনা ততটাই কম!

যতই বলি আমরা এগিয়ে যাচ্ছি,আমাদের চিন্তাভাবনা কিন্তু এখনো অনেক নিচে। আর দোষ দিব কাকে? আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্তা টাই অনেক বেশি ত্রুটিপুরন! সেক্স নিয়ে কোথাও পড়ানো হয় না, সিলেবাসে এইসব টপিক তো নাই ই, বরং যে এক দুইটা চ্যাপ্টার আছে Menstruation
and Adolescence নিয়ে, ওইগুলো ও ঠিক মতো পড়ানো হয় না! কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসুন। সুখী থাকুন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twenty − four =