কে বলে ধূমপান ত্যাগ করা যাবে না?
আমেরিকানদের মধ্যে যারা ইতোপূর্বে ধূমপান করতেন তাদের শতকরনা ৫০ ভাগ স্থায়ীভাবে ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। বাকি ৫০ ভাগের জন্য এরটা সুখবর বৈকি। নিকোটিন আসক্ত সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞান এবং এর উন্নত চিকিৎসার ফলে যারা ধূমপান ত্যাগ করতে ইচ্ছুক তাদের সফলতার হার বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
ওষুধের সঙ্গে ওষুধের যুদ্ধ:
সিগারেটের নিকোটিন একটি শক্তিশালী আসক্তির ওষুধ এবং যারা প্রতিদিন ১ প্যাকেট কিংবা বেশি সিগারেট সেবন করেন, তাদের পক্ষে ওষুধ পরামর্শ অথবা উভয়টা ছাড়া এ অভ্যাস পরিত্যাগ করা সম্ভব হয় না। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এটাই যে আপনি এমন একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন যিনি বিরতি লক্ষণ কোন অভ্যাস ত্যাগ করার পর যে রোগ লক্ষণ দেখা দেয় সুচিকিৎসা করতে পারবেন এবং এছাড়া ধূমপানজিন অন্যঅণ্য রোগব্যাধি যথা ব্রংকাইটিস, পুঁজ সঞ্চয়ন ও হৃদ রোগের চিকিৎসাও করতে পারবেন।
এর প্রধান ওষুধী চিকিৎসা হচ্ছে নিকোটিন প্রতিস্থাপন দ্রব্য বা নিকোটিন বদলে অন্য কিছু ব্যবহার করা। নাসারন্ধ্যে স্প্রে করা যায় কিংবা ইনহেলার ব্যবহার করা যায় এমন সব দ্রব্য নিকেটিনের বিরতি লক্ষণকে হ্রাস করে। নিকোটিন প্রতিস্থান দ্রব্রাদি রোগীকে কোন অভ্যাস পরিত্যাগের প্রথম ২ বা তিন মাস পর্যন্ত যথেষ্ট সাহায্যে করে এবঙ এসময়েই বা প্রত্যাবর্তনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। বাদ দেয়া অভ্যাসের প্রতি যাদের আসক্তি প্রবল তাদেরকে এই প্রতিস্থাপন দ্রব্যাদি বেশি দিন ব্যবহার করতে হবে। তবে এটা করতে হবে কোন চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষনে কারণ খোদ প্রতিস্থাপন দ্রব্যের প্রতিই আসক্তি সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সাক্ষ্য প্রমাণে দেখা গেছে নিকোটিনযুক্ত দ্রব্যাদি বেশি দিন ব্যবহার করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।
ধূমপান ও বিষন্নতারোধী ওষুধ:
এক্ষেত্রে সবচেয়ে ফলপ্রসু ওষুধ হলো বিষন্নতারোধী এবং এসব ওষুধ সিগারেটেরই অনুরুপ কতিপয় মস্তিষ্ক রাসয়নকে উদ্দীপ্ত করার মাধ্যমে কাজ করে থাকে। এর মধ্যে ধুমপান রোধের জন্য কেবলই মার্কিন খাদ্য ও ওষুদ প্রশাসনের অনুমোদন পেয়েছে। উপাত্ত্ সংগ্রহ করে দেখা গেছে ওষুধটি ধুমপানরোধে বেশফলপ্রসু।নিকোটিনের প্রতি যারা দারুণভাবে আসক্ত তাদের জন্য একাধিক ওষুদের সম্বনয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছেন চিকিৎসকরা। ধুমপান প্রতিরোধে ব্যবহৃত বিষন্নতারোধী ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামান্যই তবে গর্ভবতী মহিলা এবং অন্যবিধ বিষন্নতারোধী ওষুধ যারা খাচ্ছেন, তাদের এটা এড়িয়ে যাওয়া উচিত।
ধূমপান পরিত্যাগ বিবিধ পরামর্শ এবং সহায়তা কর্মসূচিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ধুমপান পরিত্যাগের প্রথম মাসে একাধিকবার পরামর্শ গ্রহণে যথেষ্ট সুফল লাভ করা যায়।
আরও পড়ুনঃ আপনি কি সারাক্ষন ক্লান্ত ও অবসাদ বোধ করেন?
গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

