গলব্লাডারে পাথর

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 378
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    378
    Shares

গলব্লাডারে পাথর

গলব্লাডারে পাথর মোটামুটি ভাবে একটি সাধারন রোগ এবং অনেকেই এ সম্পর্কে জানেন। সংক্ষেপে জানি গলব্লাডার কি, গলব্লাডার বা পিত্তথলি হচ্ছে পেটের মধ্যে লিভারের নিচে একটি থলি বিশেষ। এই ছোট্র থলিতে লিভার থেকে নিসৃত পিত্ত জমা থাকে, আর আমরা যখন খাওয়া দাওয়া করি তখন পিত্ত তার থলি থেকে পিত্তনালি নামক নল দিয়ে নেমে অন্ত্রে আসে, যেখানে সে খাবার হজমে সহায়তা করে। কিন্তু শরীরের নানাবিধ গন্ডগোলের মত এখানেও গন্ডগোল হয়, তার মধ্যে একটি হচ্ছে পাথর হওয়া।

এই গলব্লাডারে পাথর কাদের হয়?

ইংরেজীতে একটি প্রবাদ আছে যার বাংলা হচ্ছে ৪০ চল্লিশ বছরের মোটা সুন্দরী মহিলাদের অর্থাৎ ৪০ বা তার উদ্ধের মহিলারা যারা একটু মোটা অর্থাৎ যাদের শরীরে বেশী চর্বি আছে তাদেরই এইরোগ বেশী হয়।পুরুষদের ও এই রোগ হতে পারে,তবে অপেক্ষাকৃত কম। তবে পুরুষদের হলে সাধারনত: জটিলতা বেশী হয়।

এই রোগের লক্ষন কি?

প্রথমত: কোন লক্ষন ছাড়াই এই পাথর চুপচাপ দীর্ঘদিন বসে থাকতে পারে। অন্য লক্ষন গুলির মধ্যে  উপরের পেটে অল্প অল্প  ব্যাথা, বদহজম, খাওয়ার পর বিশেষত: চর্বি জাতীয় খাবার খেলে পেটে অস্বস্থি সহ ব্যাথা ইত্যাদি। এছাড়া তীব্র পেটে ব্যাথা শুরু হতে পারে সাথে বমি, জ্বর ইত্যাদি থাকতে পারে। এসব লক্ষন হয় যখন গলব্লাডার এ প্রদাহ (Inflammation) হয়। এছাড়া রোগ  আরও তীব্র হয়ে পুজ জমে যাওয়া (Empyema) পঁচে যাওয়া (Gangrene ) হতে পারে। ছোট পাথর ছুটে গিয়ে পিত্তনালীতে গিয়ে জন্ডিস তৈরী করতে পারে।এ ছাড়া দীর্ঘ দিন পিত্তথলীতে পাথর থাকলে গলব্লাডার ক্যানসার নামক মারাত্নক ক্যানসার হতে পারে  পারে।

গলব্লাডারে পাথরের চিকিৎসা কি?

এটা এখন সবাই মোটামুটি জানে গলব্লাডার পাথর এর চিকিৎসা। এর চিকিৎসা হচ্ছে অপারেশন এর মাধ্যমে গলব্লাডার পাথর সহ ফেলে দেওয়া। প্রশ্ন করতে পারেন গলব্লাডার ফেলে দিলে পিত্ত কোথায় জমা হবে?, আর শুধু মাত্র পাথর ফেলে দিলে কি অসুবিধা? উত্তর হচ্ছে অসুবিধা আছে- কারন শুধু পাথর ফেলে দিলে নিশ্চিত ভাবেই পিত্তথলিতে আবার পাথর হবে। আর গলব্লাডার ফেলে দিলেও কোন সমস্যা নাই কারন পিত্ত লিভার থেকে পিত্তনালী দিয়ে সরাসরি অন্ত্রে পৌছে যাবে। পিত্তপাথরের অপারেশন দুই ভাবে করা যায় , একটি হচ্ছে মেশিনের সাহায্যে অর্থাৎ লেপারোস্কোপির মাধ্যমে আর একটি হচ্ছে সাধারন ভাবে কেটে।বর্তমানে বাংলাদেশে আমরা প্রায় সব অপারেশনই মেশিনের সাহায্যে করছি    সাফল্যজনক ভাবে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মেশিনের সাহায্যে করা সম্ভব হয় না যেমন খুব বেশী ইনফেকশন থাকলে, গলব্লাডারে বেশী পুজ জমা হলে বা গলব্লাডারে পঁচে গেলে। মেশিনের সাহায্যে গলব্লাডার অপারেশন বর্তমানে খুব সহজেই করা হচ্ছে। এতে রোগীদের মাত্র একদিন বা দুই দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। একই মেশিনে একই পদ্ধতিতে করা অপারেশন এখানে খরচ হয় উন্নত বিশ্বের তুলনায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ থেকে দশ ভাগের এক ভাগ। গলব্লাডার পাথর একটি সাধারন রোগ, জটিল হয়ে গেলে অনেক বেশী ভূগতে হয়, তাই বিলম্ব না করেই এর চিকিৎসা করা উচিৎ।

আরও পড়ুনঃ লিভারের কার্যকারিতা ও লিভারকে সুস্থ রাখার উপায়।

অধ্যপক ডা: এসএমএ এরফান
বাংলাদেশ পাইয়োনিয়ার কোলোরেক্টাল সার্জন
চেম্বার:জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ হসপিটাল
৫৫,সাতমসজিদ রোড,জিগাতলা বাসষ্ট্যান্ড,ধানমন্ডি,ঢাকা
মোবাইল:০১৮৬৫৫৫৫৫১১,০১৬২৬৫৫৫৫১১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

five × five =