ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার উদ্বোধন হল ঢাকা মেডিকেল কলেজে

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 52
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    52
    Shares

ছবিঃ মেডিভয়েজ

নতুন সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন বলেছেন, দেশের সব জেলা হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে আধুনিক ওয়ান স্টপ সেন্টার চালু করা হবে। এখন থেকে রোগীরা জরুরি বিভাগেই সব সেবা পাবেন। এমন হাসপাতাল চাই না যেখানে চিকিৎসক পাওয়া যাবে না, ওষুধ পাওয়া যাবে না। কোনো রোগীকে যেন বলতে না হয় মেশিন নষ্টের কারণে চিকিৎসা হয়নি।

রোববার বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে জরুরি সব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এসব কথা বলেন।

জাহিদ মালেক স্বপন বলেন, কিছুদিন আগেও রোগীরা টিকিট কেটে চিকিৎসক দেখিয়ে হাসপাতাল ভেতরে কিছুটা দূরে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতো। এখন সেটা না করে জরুরি বিভাগেই এই সেবা পাবে। তাড়াতাড়ি রোগী চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক মৃত্যু হয়েছে। এই কারণেই এক ছাদের নিচে সব রোগের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে কারণে জরুরি বিভাগ খোলা হয়েছে সেটা যেন ব্যাহত না হয়- এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম নাসির উদ্দিন জানান, সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে পাঠনোসহ সমস্ত জরুরি রোগী আসে। তাদের চিকিৎসা নিয়ে হিমশিম খেতে হতো। কারণ জরুরি রোগীর জন্য যে সমস্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা দরকার সে সমস্ত যন্ত্রপাতি একেকটি একেক স্থানে রয়েছে। এতে যে সময় লাগত তা আর লাগবে না। এখন থেকে জরুরি রোগীর জন্য যা যা প্রয়োজন তা, এখানেই রয়েছে। এছাড়া চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ ও হাসপাতালের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা।

ঢাকা মেডিকেল সূত্র জানায়,, ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে আগত রোগীদের লাল, কমলা, হলুদ ও সবুজ রঙে চিহ্নিত করে সেবা দেয়া হবে। অতি জরুরি বা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের লাল রঙে চিহ্নিত করা হবে। এরপর জরুরি বা মারাত্মক আহতদের কমলা রঙ, আঘাত মারাত্মক কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা সম্ভব এমন রোগীদের হলুদ এবং অপেক্ষাকৃত কম মারাত্মক রোগীদের সবুজ রঙে চিহ্নিত করা হবে। রোগীদের জন্য চার শয্যার আইসিইউ, চার শয্যার এইচডিইউ এবং পর্যবেক্ষণসহ মোট ১৬টি শয্যা থাকছে এখানে।

এছাড়া জরুরি রোগীদের ইসিজি, এক্স-রে, ইকোকার্ডিওগ্রাফি, আলট্রাসনোগ্রাফি, সিটি স্ক্যান, ডায়াথার্মি, পালস অক্সিমিটার এবং রক্তের জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা। রোগীদের যাতে খুব দ্রুততার সঙ্গে একই ছাতার নিচে স্বল্প সময়ে চিকিৎসা দেয়া যায়, সেজন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেন্টারটিতে অর্থোপেডিক্স, নিউরোলজি ও নিউরো সার্জারি, হৃদরোগ, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগ এবং শিশু রোগ বিশেষজ্ঞরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। প্রত্যেক বিভাগে একজন করে কনসালট্যান্ট নিয়োজিত থাকবেন। তাদের তত্ত্বাবধানে সার্বক্ষণিক প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয়, ওটি বয় ও অন্যান্য লোকবল নিয়োজিত থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four × 5 =