রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা হলে করনীয়

রক্তে ইউরিক অ্যাসিড সমস্যা

প্রাথমিক কথাঃ 

রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ অতিরিক্ত পরিমাণে বেড়ে গেলে শরীরের বিভিন্ন অংশ যেমন জয়েন্ট, কিডনি বা স্কিনে ক্রিস্টালের আকারে ইউরিক অ্যাসিড দানা বেঁধে জমতে শুরু করে। ফলে পায়ের গোড়ালি, হাঁটু, কোমরে ব্যথা শুরু হয়। বংশগত কারণের পাশাপাশি অত্যাধিক প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবর খাওয়া, এক্সারসাইজের অভাব, স্ট্রেস এই সব কারণেই ইউরিক অ্যাসিড হতে পারে। তবে খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে এই সমস্যা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কী কী খেতে পারেনঃ 

 যথেষ্ট পরিমাণে পানি খান। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে কফি খাবেন না। গরমের দিনে বা এস্কারসাইজের পর ফ্লুইড ইনটেক খুব জরুরি। কারণ ডিহাইড্রেশন থেকে গাঁটে ব্যথার সমস্যা হতে পারে। হার্বাল টি, ভেজিটেবল জুস খেতৈ পারেন। ক্যারট জুসের মধ্যে বিট ও শশার রস মিশিয়ে খেতে পারলো ভালো।
অ্যালকোহলের মতো ভিনিগারও ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় ক্ষতিকর। তাই স্যালাড ড্রেসিংয়ে লেবুর রস ব্যবহার করুন।
আনারস খেতে পারেন। ক্র্যানবেরি জুস (মিষ্টি ছাড়া) দারুণ উপকারী।
ইউরিক অ্যাসিডের ব্যথা প্রতিরোধ করতে ফ্রুট স্যালাডে চেরি ব্যবহার করুন। চেরি এই সমস্যায় ভালো কাজ করে। চেরি, স্টবেরি ও একই কারণে ডায়েট রাখতে পারেন।

 

 

কী ধরনের খাবার এড়িয়ে যাবেনঃ 

প্লাম, খেজুর, পালং শাক, ডিম, ডেয়ারি প্রডাক্ট, দুধ, চিজ, পনির, দই, মাসরুম, সয়াবিন, মাটন, টোমেটো এড়িয়ে চলুন। মাংসের লিভার, মাছের মধ্যে ম্যাকারেল, প্রন কম খান।
দুপুরে বা রাতে যোকোনও ১ বার ডাল খেতে শুরু করুন।
ফুলকপি, ট্রার্কি, রাজমা, মটরশুঁটি, অ্যাসপারাগাসে মাঝারি মানের পিউরিন রয়েছে। এগুলো অল্প পরিমাণে খেতে পারেন।
বিয়ার এড়িয়ে চলুন। ময়দা থেকে তৈরি খাবার কম পরিমাণে খান।
কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাস কমান ।
সি ফুড খাওয়া কমিয়ে দিন।

 

কারা ইউরিক এসিডে বেশি আক্রান্ত হনঃ

যাদের বংশে বাতের সমস্যা আছে তারা এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
যারা এলকোহল গ্রহণ করে।
যারা প্রোটিন জাতীয় খাবার চাহিদার তুলনায় বেশি খেয়ে থাকে এবং শাক সবজি কম খায়।
কিছু কিছু ওষুধ রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। যেমন : ডাই ইউরেটিক মেডিসিন।
যাদের উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা, হৃদরোগের সমস্যা আছে তাদের ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে।
যাদের ওজনাধিক্য রয়েছে তারাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
যারা পানি কম পান করে তাদের এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা আছে।

ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে উল্লিখিত শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুনঃ অনিদ্রা থেকে মুক্তি পেতে কি করবেন?

 

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*