এন্ড্রোজেন (Androgen) নামক হরমোনের কাজ হল মুখে দাড়ি বুকে লোম গজানো এবং কণ্ঠস্বরকে ভারি করে তোলা। পর্যাপ্ত এন্ড্রোজেন ক্ষরণ না হলে দাড়ি গজায় না। এটি একটি শারীরিক সমস্যা। তবে ১৯ বছর বয়সী ছেলেদের ক্ষেত্রে দাঁড়ি গজানোর সম্ভাবনা রয়েছে। হতে পারে কারও কারও কিছুটা বয়স হলে পরে দাঁড়ি গজায়। এক্ষেত্রে আপনি একজন হরমোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যেতে পারেন।
সাধারণত আমরা জানি, বয়সন্ধিকালের বা বয়সন্ধিকালোত্তীর্ণ পুরুষলোকের দাড়ি গজায়। একজন পুরুষের প্রাপ্তবয়স্ক (Puberty) হওয়ার বয়স সাধারণত ১৩ থেকে ১৫ বছর অর্থাৎ এই বয়সেই পুরুষের শরীরে অনেক পরিবর্তন ঘটে, যার একটি হচ্ছে দাড়ি-গোঁফ ওঠা। এক্ষেত্রে পুরুষ হরমোন টেস্টস্টেরনের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
টেস্টোস্টেরন (Testosterone) পুরুষত্বের জন্য দায়ী প্রধান স্টেরয়েড হরমোন যা এন্ড্রোজেন গ্রুপের (Androgen)। মানুষ সহ অন্যসকল স্তন্যপায়ী প্রাণীর শুক্রাশয়ে এটি উৎপন্ন হয়। স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে পুরুষের শুক্রাশয় এবং নারীর ডিম্বাশয় থেকে উৎপন্ন হয়, যদিও স্বল্প পরিমাণ অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি (Adrenal Gland) থেকে ক্ষরিত হয়। এটি প্রধান পুরুষ হরমোন যা শুক্রাশয়ের লাইডিগ কোষ (Leydig Cell) থেকে উৎপন্ন হয়।
পুরুষের জন্য টেস্টোস্টেরন, প্রজনন অঙ্গ যেমন শুক্রাশয় (Testis) বর্ধনের পাশাপাশি গৌণ বৈশিষ্ট্য যেমন মাংসপেশি, শরীরের লোম বৃদ্ধি করে। পুরুষদের মাঝে টেস্টোস্টেরন বিপাক হার নারীদের তুলনায় ২০ গুণ বেশি।
পুরুষদের বয়োঃসন্ধিকালে মুখমন্ডলের লোমকূপে ডিহাইড্রোটেস্টোস্টেরনের (DTH) উদ্দীপনার কারণে দাড়ি গজায় । ডিহাইড্রোটেস্টোস্টেরন টেস্টোস্টেরন হতে নিঃসৃত হয়, যার মাত্রা বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন হয়। ফলে গ্রীষ্মকালে দাড়ি দ্রুত বাড়ে ।
এই টেস্টোস্টেরন হরমোন কমবেশির কারণে আবার অনেকের প্রকৃত বয়সের পরে দাড়ি গোঁফ গজায়। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পারিবারিক (Familial) বা জন্মগত (Conginatal) কারণেও দাড়ি-গোঁফ কারো কারো কম বা দেরিতে ওঠে । তবে তা যদি অনেক বেশি দেরি হয়ে যায় তাহলে এটিকে শারীরিক সমস্যা বলে অভিহিত করা যায়। এমতাবস্থায় অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

