শরীরের ওজন হঠাৎ করে কমে যাওয়া
মানবদেহেরে ওজন দেশ, জাতি, স্ত্রী, পুরুষ, উচ্চতা ও বয়সভেদে কমবেশি হয়ে থাকে। তবে এসবের তারতম্য অনুযায়ী, মানবদেহের স্বাভাবিক ওজন আছে এবং জন্মের সময়ই আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক শিশুর পূর্ণতা অনুযায়ী স্বাভাবিক ওজন দিয়ে থাকেন; যেটা ভবিষ্যতে পুষ্টি, বংশগত প্রভাব, অসুখ-বিসুখ না হওয়া, মানসিক প্রশান্তি, পরিবেশ ইত্যাদির ফলে ওজন কমবেশি হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে পশ্চিমা খাদ্যের প্রভবে ফাস্টফুডের প্রচলনে মানবদেহের ওজন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। যার ফলে পরবর্তীকালে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মেদ বৃদ্ধি, হৃদরোগ ইত্যাদি হয়ে থাকে।
তবে যেকোনো সময় হঠাৎ করে যদি কয়েক মাসের মধ্যে শরীরে ওজন কমে যায়, তবে তা অবশ্যই চিন্তার বিষয়। এবং এর কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি। অনেকে পথ্য নিয়ন্ত্রণ করে, ব্যায়াম ও পরিশ্রম করে শরীরের ওজন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু হঠাৎ করে যদি অল্প সময়ে বেশি ওজন কমে যায়, তখনই চিন্তার বিষয় এবং যতদ্রুত সম্ভব কারণ বের করে চিকিৎসার মাধ্যমে ওজন স্বাভাবিক রাখা যায়।
হঠাৎ ওজন কমার কারণ
শরীরের ওজন তখনই কমে, যখন শরীরের মাংস, পানি বা চর্বি কমে যায়। যদিও পথ্য নিয়ন্ত্রণ করে ওজন কমানো যায়, তবে এক বছরে যদি ৫ শতাংশ ওজন কমে যায়- সেটা গুরুতর কোনো কারণে হতে পারে। সাধারণত মানুষের উচ্চতা যত সেন্টিমিটার, তা থেকে ১০০ বিয়োগ করলে যত হয়, তত কেজিই হচ্ছে স্বাভাবিক ওজন। যেমন- কারো উচ্চতা যদি ১৬০ সেন্টিমিটার হয়, তবে স্বাভাবিক ওজন হবে (১৬০-১০০) বা ৬০ কেজি।
প্রধান কারণগুলো
- খাবারের সমস্যা
- মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা
- ক্যান্সার
- দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া
- ডায়াবেটিস।
অন্যান্য কারণ- এইডস; হাইপারাথাইরয়েডিজম; আর্থ্রাইটিস; যক্ষা; কিডনিবৈকল্য; জি-ই-আর-ডি; ফুসফুসের সমস্যা। তা ছাড়া বয়সও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ছাড়া ড্রাগের অপব্যবহার, ল্যাক্সেটিভের অপব্যবহার, অপুষ্ঠি, পারকিনসন্স ডিজিজ ও অন্ত্রনালীর বাধা ও হঠাৎ ওজন কমার কারণ হতে পারে।
খাবারের সমস্যা
আমাদের এটা জানা উচিৎ, শরীরের ওজন নির্ভর করে খাবার গ্রহণের ওপর। আমরা যদি Balanced diet গ্রহণ করি, তবে শরীরের ওজন ঠিক রাখা সম্ভব। তাই যখন পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করা বন্ধ করি তখন ওজন কমে যায়। এটা তাদের জন্য প্রযোজ্য, যারা খাদ্য সমস্যায় ভোগেন; যেমন-
i) Anorexia Nervosa
ii) Bulimia nervosa
Anorexia Nervosa হচ্ছে মানসিক সমস্যা, যখন ওই ব্যক্তির অত্যাধিক ভয় থাকে ওজন বেড়ে যাওয়ার। ফলে খাদ্য গ্রহণ একদম কমিয়ে দেয় এবং শীর্ণকায় হয়ে যায়। অন্য দিকে Bulimia nervosa হচ্ছে যখন খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে খায়, কিন্তু খাবার গ্রহণের পর বমি করে বা অত্যধিক ব্যায়াম করে যাতে ওজন বৃদ্ধি না পায়। এ দুই কারণেই হঠাৎ ওজন কমে। এর চিকিৎসাও দ্রুত শুরু করা দরকার, নচেৎ জীবনের জন্য হুমকি হতে পারে, যেমন-খাবার গ্রহণে অনীহা দেখা দেয়। বিশেষত ২০ বছর বয়সের মেয়েদের ক্ষেত্রে এ রকম হয়ে থাকে।
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা
হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া মানসিক সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। যেমন-মানসিক চাপ ও উদ্ধিগ্ন থাকা। বর্তমান ব্যস্ততম পৃথিবীতে বিভিন্ন কারণ যেমন (চাকরি/ব্যবসা) কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন অবস্থার জন্য মানসিক চাপ হয়ে থাকে। এই চাপ থেকে বের হতে না পারলে তা দৈহিক সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। যেমন-হঠাৎ ওজন কমা, দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস নেয়া, মাথাঘোরা, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ঠ ইত্যাদি। মানসিক চাপ ও উদ্বিগ্ন ছাড়াও কিছু কারণ; যেমন- ডিপ্রেশনে ওজন কমাতে পারে। ডিপ্রেশনে রোগী সব সময় বিষন্ন ও উদ্বিগ্ন থাকেন, যার কারণ হচ্ছে কিছু মানসিক, পারিপার্শ্বিক বা জেনেটিক। এদের ক্ষুধা খুব কমে যায় এবং এরা হজমের সমস্যায় ভুগে থাকেন। ফলে হঠাৎ ওজন কমে যায়।
ক্যান্সার
ক্যান্সার জীবনের প্রতি হুমকিস্বারূপ, যা হঠাৎ ওজন কমার অন্যতম একটা কারণ। যে ক্যান্সারই হোক, যেমন: রক্তের ক্যান্সার, প্যানক্রিয়াস, ফুসফুস, পাকস্থলী বা লিভার প্রতিটি ক্যান্সারেই হঠাৎ ওজন কমে যায় এবং দ্রুত এই লক্ষণ সাধারণত দেখা দেয়। কারণ হচ্ছে এসব অসুখে শরীরের বিপাকক্রিয়া বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীরের বেশি বেশি ক্যালরি নষ্ট হয় এবং ওজন হ্রাস পায়। কিছু রোগী ক্যান্সার চিকিৎসার সময় হঠাৎ বেশি ওজন কমে যাওয়া উপলব্ধি করে।
ধূমপান
ধূমপান বিষপানের সমান। ধূমপান করলে শুধু ফুসফুসের ক্যান্সার নয়, বরং কিডনি, পাকস্থলী, মুখগহ্বর, অন্ত্রনালী ও জরায়ুমুখ ক্যান্সারও হতে পারে। তাই ধূমপান ত্যাগ করা জরুরি। এ জন্য উপদেশ হচ্ছে-
- ধূমপানের ইচ্ছা ত্যাগ করুন, ধূমপানের ইচ্ছ হলে লন্য কাজে মনোযোগ দিন।
- ইচ্ছা হলে ফলমূল খান, ভিটামিন ‘সি’ খান ।
- ধূমপানের সমস্যগুলো জানুন, চিহ্নিত করুন, বন্ধুবান্ধবের সাথে আলাপ করুন।
- মনকে সব সময় ইতিবাচক চিন্তার অনুসারী করুন।
- নিজেকে অধূমপায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করুন।
ধূমপান ত্যাগ করে বিভিন্ন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে শরীরে হঠাৎ করে ওজন কমা বন্ধ করা সম্ভব।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

