নার্সদের ভূল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু

মো. রেজাউল করিম রাজু, নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা): কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সদের ভূল চিকিৎসায় পিংকি আক্তার (২০) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর থেকে নার্স নাজমা, মমতাজ ও শাহেদা পলাতক রয়েছে। সে উপজেলার ঢালুয়া ইউপির মকিমপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের স্ত্রী।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালের দিকে পিংকির প্রসবের ব্যাথার অনুভব হলে ওই দিন পিংকি আক্তারকে তার শশুর বাড়ীর লোকজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কর্তব্যরত নার্সরা পিংকিকে হাসপাতালে আধাঘন্টা হাটাচলা করান এবং নরমাল ডেলিভারি করার জন্য লেবার রুমে নিয়ে যায়। এরপর ব্যাথা বাড়ানোর জন্য ওষুধ ও স্যালাইন পুশ করে। পরে ব্যাথা বাড়লে নার্সরা চিকিৎসক ডেকে অস্ত্রোপাচার (সিজার) করার জন্য বলে।

এ সময় সেবিকারা স্বাভাবিক ভাবে সন্তান প্রসব হবে বলে কালক্ষেপন করেন। পরে তারা পিংকির ডেলিভারি করার সময় জরায়ু কেটে পেলায় অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরনের কারণে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে গিয়ে নার্স মমতাজকে পাওয়া গেলেও আর কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে মতমতাজকে জিজ্ঞেস করলে, সে কোন বক্তব্য দেবে না বলে এড়িয়ে যায়।

পিংকির শাশুরি ছপুরা বেগম (৪০) অভিযোগ করে বলেন, ডেলিভারি করার সময় আমি ভেতরে ছিলাম। কর্তব্যরত নার্সরা ইচ্ছাকৃত ভাবে তার পুত্রবধুকে বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে তিনটি কাটা দেয়। তাৎক্ষনিক সে চিৎকার করে মুখে লালা চেড়ে দেয়। কিছুক্ষনপর তার মৃত্যু হয় এবং দু:খের বিষয় জম্মের পর আমার পুত্র বধু তার সন্তানের চেহারা দেখে যেতে পারেনি। নার্সদের অবহেলায় আমার নাতি হারালো মা। এরপর ডা: লতিফা আহম্মেদ লতা গিয়ে তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা ডা: দেব দাস দেবের মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সে ফোন রিসিভ করেনি।
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা: মজিবুর রহমান জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে সঠিক ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ অভিযোগ করে তাহলে তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ মাথায় নতুন চুল গজানোর ঔষধ ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*