এই শীতে নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়াই স্বাভাবিক, তাপমাত্রা কমে গেলে স্বাস্থ্যের কিছু ঝুঁকি বেড়েও যায় অনেক। শীতের এসব অসুখ মোকাবেলায় শরীরকে সাহায্য করার আছে যে উপায়।
শীতে ঠান্ডা লাগা
আমাদের দেশে শীত এলেই ঠাণ্ডা লাগার প্রকোপ বেড়ে যায়, নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করলে ঠান্ডা সর্দি হতে প্রতিরোধ পাওয়া যায়। ঠান্ডা সর্দি হয়েছে এমন সব লোক ছুয়েছেন এমন সব স্থান ও জিনিস যেমন বৈদ্যুতিক বাতির সুইচ, দরজার হাতল, এতে হাত লাগলে তা ধুয়ে ফেললে বারবার সর্দির জীবানু সংক্রমণ হতে রক্ষা পাবে সহজে। ঘরে কোনও লোক অসুখ থাকলে কাপ, গ্লাস, টাওয়েল সব পয়পরিষ্কার এবং আলাদা রাখা উচিত।
টিপস: ঠান্ডা লাগলে, সর্দি হলে, কাপড়ের রুমাল ব্যবহার না করে ডিসপোজেবল টিসু ব্যবহার করা উচিত। এতে হাত অনবরত পুন:সংক্রমণ থেকে বাঁচবে।
গলা খুসখুস, গলা ব্যথা
গলা খুসখুস, গলাব্যথা শীতকালে বেশ সচরাচর দেখা যায় এবং প্রায়শ তা ভাইরাস সংক্রমণে হয়ে থাকে। এমন তথ্য প্রমাণ আছে, তাপমাত্রার পরিবর্তন যেমন উষ্ণ ঘর থেকে হিমশীতল বাহিরে গেলে গলা খুসখুস এবং গলা ব্যথা হতে পারে।
টিপস: গলা খুসখুসের সহজ একটি সল্যুশন হলো উষ্ণ লবন যুক্ত পানি দিয়ে গড়গড়া করা। এতে সংক্রমণ নিরাময় হয়না বটে তবে গলা খুসখুসে ভাবটা অনেকটা নিরাময় হয়। উষ্ণ লবন যুক্ত পানিতে রয়েছে প্রদাহরোধী গুণ এবং উপশম করার মত গুণ। কুসুম গরম একগ্লাস পানি এক চা চামচ লবণ মিশিয়ে গড়গড়া করুন রেজাল্ট ভাল আসবে।
হাঁপানি
হিমশীতল বাতাসে হাঁপানি রোগ বাড়ে, শুরু হয় বুকে সাঁ সাঁ শব্দ ও শ্বাসকষ্ট। যাদের হাঁপানি আছে তাদের শীতকালে সতর্ক থাকা উচিত।
টিপস: খুব শীতল, হিমবাতাস যেদিন, সেদিন ঘরে থাকুন। যদি বাইরে যেতেই হয় তাহলে নাক ও মুখে স্কার্ফ/মাস্ক বেধে নিন। নিয়মিত ওষুধ নেবেন। জীবন রক্ষাকারী ইনহেলার রাখুন হাতের কাছেই।
ভাইরাস
শীতকালের খুব দুষ্ট ও সংক্রামক ভাইরাসের আক্রমন বেড়ে যায় বহু গুন। সারাবছর এর গতি অগ্রতিহত থাকে। শীতকালে বড় তীব্র হয়। হোটেলে ও বিদ্যালয়ে এর গতিবিধি বেশি।
টিপস: অসুখে যদি বমি ও তরল মল হয়, পানিশূন্যতা ঠেকাতে খেতে হয় প্রচুর পানি ও তরল। ছোট বাচ্চা ও বুড়োদের ঝুঁকি বেশি। মুখে খাবার স্যালাইন খেলে এসব সমস্যা ঠেকানো যায়।
ব্যথাযুক্ত হাড়ের গিট
যাদের আথ্রাইটিস সমস্যা আছে এদের অনেকেই অভিযোগ করেন, শীতকালে হাড়ের গিটগুলোতে ব্যথা খুব বাড়ে। আবহাওয়াতে প্রভাবিত হয়ে হাড়ের গিটের সমস্যা যেমন ব্যথা ও নিশ্চলতা সৃষ্টি হয়। আবহাওয়া পরিবর্তনে হাড়ের ক্ষতি বা গিটের ক্ষতি হয় এমন প্রমাণ নেই।
টিপস: অনেকে শীতের দিনগুলোতে কিছুটা বিষন্ন হয়ে পড়েন তাই এদের ব্যথা বেদনার অনুভব বেশি। সব কিছু খারাপ লাগে। এমনকি অসুখও। নিত্য দিন ব্যায়ামে শরীর ও মন ভালো হয়। সাতার কাটা উত্তম যা হাড়ের গিটের জন্য আরো ভালো।
হার্ট এ্যাটাক
শীতকালে হার্ট এ্যাটাকের ঘটনা বেশি হয়। শীতের ঝাপটায় বাড়ে রক্তচাপ, চাপ পড়ে হূদযন্ত্রের উপর। শীতকালে দেহতাপ রক্ষার জন্য হূদযন্ত্র আরো কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
টিপস: ঘরের ভেতর উষ্ণ গরমে থাকুন। শোবার ঘরে যেন তাপমাত্রা থাকে ২১ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড এর উপর। গরম পানির বোতল বা ইলেকট্রিক ব্ল্যাংকেট ব্যবহার করা যায় শয্যা গরম করার জন্য। বাইরে যেতে হলে গরম কাপড় পরে যেতে হয়, পরুন মাথায় হেট, স্কার্ফ ও গ্লোবস্।
হিমশীতল হাত
শীতের আবহাওয়ায় হাতের আঙ্গুল ও পায়ের আঙ্গুলগুলো অত্যন্ত বেদনার্ত হয়। আঙ্গুলগুলো প্রথমে সাদাবর্ণ হয় এর পরে নীল এর পর রক্তবর্ণ। ঝিনঝিন করে। হাত ও পায়ের ক্ষুদ্র রক্তনালীতে রক্ত চলাচল কমে যায়।
টিপস: সব সময় হাতে উষ্ণ মোজা পড়া, পায়েও মোজা ও জুতো পরা উচিত বিশেষ করে বাইরে যাবার সময়।
শুষ্কত্বক
সচরাচর শীতের সময় বাড়ে ত্বকের শুষ্কতা, আবহাওয়ায় আর্দ্রতা যখন কমে আসে। শীতকালে চাই আর্দ্রকরণ, ময়েশ্চারাইজিং। স্নানের পর বা শাওয়ারের পর ময়শ্চরাইজার লাগানো উত্তম। আবার শয্যা গ্রহণের আগে।
টিপস: উষ্ণ শাওয়ারের চেয়ে কুসুম গরম শাওয়ার ভালো। খুব গরম জল ত্বক আরো শুষ্ক ও চুলকানি হয়। চুলও শুষ্ক ও ফ্যাকাশে হয়।
অ্যালার্জিজনিত ঠাণ্ডা
পোলেন, ধুলা, খাবার, পোকার বিষ, ওষুধ ইত্যাদি থেকে অ্যালার্জি হয়। নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, গলা খসখস ইত্যাদি লক্ষণ।
অ্যাকিউট সাইনোসাইটিস
গায়ে হলুদ সর্দি নাক দিয়ে বের হয়, কাশি, মাথা ধরা বা ভারবোধ, নাক বন্ধ হওয়া, মুখ ফোলা ফোলা ভাব, দাঁতের ব্যথা, ক্লান্তভাব, জ্বর দেখা যায়। চিকিৎসা না হলে এসব লক্ষণ কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। এ লক্ষণ দুই মাসের বেশি থাকলে একে ক্রনিক সাইনোসাইটিস বলে।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

