
ডিমেনশিয়া
ডিমেনশিয়া কী ?
বয়স্কদের অনেক ধরনের রোগ হতে পারে- জৈবিক, মানসিক ও মনোদৈহিক। ডিমেনশিয়া এমন একটি অবস্থা, যখন মানুষের আগের থেকে অজর্ন করা জ্ঞানলোপ পেতে থাকে। ৬৫ বছর বয়সের বেশি বয়সে শতকরা পাঁজন এবং ৮৫ বছর বয়সের বেশি বয়সে শতকরা ২০ জনের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।
অতীতের অনেক স্মৃতি মনে থাকে না, তবে তা বেশি ঘটে নিকট অতীতের স্মৃতির ক্ষেত্রে। অর্থাৎ ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধ হয়েছিল বলতে পারলেও গতকাল কী খেয়েছেন তা ভুলে যেতে পারেন। ডিমেনশিয়া হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জৈব মনোব্যাধি। মস্তিষ্কের কোষ শুকিয়ে ন্সায়ুকুষ নষ্ট হয়ে এই পরিবর্তন ঘটে।
ডিমেনশিয়া কি ভালো হতে পারে ?
সাধারণত এটা ক্রমাবনতি হয় এবং আবার আগের মতো স্বাভাবিক স্মরণশক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
কী কী কারণে হতে পারে ?
অনেক কারণের মদ্যে আলঝেইমারস ও বিক্ষিপ্ত রক্তনালীর ডিজিজ অন্যতম কারণ। প্রথমটি ৬৫ বছরের আগে আস্তে আস্তে দেখা দেয়। এ ছাড়া অন্যান্য কারণে মধ্যে ব্রেন টিউমার, মাল্টিপল স্কিলোরোসিস, মস্তিস্খে আঘাত, মদপানে ভিটমিন বি-১২ অভাব দেখা দেয়া, সিফিলিস,ও এইচআইভি জীবাণু সংক্রমণ এবং ক্রুজফেলডট জ্যাকব ডিজিজ, মৃগীরোগ, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি বৈকল্য ও ডায়ালাইসিস ইত্যাদি।
লক্ষণ কী কী ?
স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া ও ব্যক্তিগত আচার-ব্যবহারজনিত সমস্যা দেখা দেয়। নিজের পিতার নাম বলতে পারলেও তিন দিন আগে জন্ম নেয়া নিজের নাতি আব্দুল্লাহর নাম মনে করতে পারে না। এ জন্য রোগীর সাথে থাকা লোজনের সাথে কথা বলে জানা যেতে পারে নিজের ছেলেকে চিনতে না পারা বা নাম বলতে না পারা, নিজের চশমা কোথায় রেখেছন কাল রাতে তা খুজে না পাওয়া, একই কথা বারবার বলা, কিছুক্ষণ আগে খেলেও বলেন কিছু খাননি বা কী খেয়েছেন তা স্মরণ করতে না পারা । তবে ক্রাবনতি হলে ঘর থেকে বের হয়ে গেলে নিজের বাড়ি চিনে ফিলতে না পারার মতো অবস্থাও হতে পারে। নিজের যত নিতে অপারগ, বুদ্ধির অবনতি, স্থান-কাল-পাত্র নির্ণয়ে কষ্ট, আবেগ ও মেজাজ পরিবর্তন। তবে রাতে এসব সমস্যা বৃদ্ধি পায় এবং রাতের বেলা একাকী হাঁটাচলা ও ঘোরাফেরা করে থাকে।
কী কী পরীক্ষা করা যেতে পারে ?
প্রথম (MMSE) করে (Score) দেখে অসুখের প্রকৃতি ও গভীরতা নির্ণয় করা যায়।
এটি একটি তৈরি প্রশ্নের সেট-যার উত্তর রোগী দিলে সেখান থেকে স্কোর বের করা যায়।
ক. প্রাথমিক রক্ত পরীক্ষা (CBC, ESR, Urea, Electrolyte, Glucose, Calcium, Creatinine, Liver Function Test, Thyroid Function Test, VitaminB12,VDRL, ANA,Anti-ds DNA, Chest-Ray, EEG, B‡gwRs – CT Scan/MRI Brain. )
খ. কিছু ক্ষেত্রে Lumber Puncture, HIV.
চিকিৎসাব্যবস্থা কী ?
কারণের মধ্যে যেগুলো চিকিৎসা করে ভালো হয়ে যায়, সেসব কারণে চিকিৎসা করা। যদি তা না থাকে তবে রোগীর সাহায্য ও যতœ নিয়ে তাকে ভালো থাকতে সচেষ্ট হওয়া। রোগীর নিরাপত্তা, অর্থাৎ হঠাৎ বাইরে চলে যেয়ে ফিরে না আসার ভয়-এ জন্য নজরে রাখা, তার খাবার, ন্সান, ঘুমের যত্ন নেয়া। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সহায়তা নিয়ে রিভাসটিগমিন (এক্সিলন/রিভামার) জাতীয় ওষুধ রোগীর যতক্ষন ও দেখাশোনা বাড়রি অন্যান্য সদস্যের নজরে থাকলে রোগীর জীবনধারণ ও কোয়ালিটি উন্নয়ন করা সম্ভব । চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দিনে অস্থিরতা কমার ওষুধ হেলোপেরিডল এবং রাতে ঘুমের ওষুধ, ক্লোরাপ্রমাজিন বা এমাইট্রিপটাইলিন দেয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ মনোযৌন সমস্যা বিচ্যুতি ও সমাধান।
গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
