
শিশুদের পায়ের ব্যথা কিংবা স্কুলে যাওয়ার সময় ভারী ব্যাগ বহনের কারণে ঘাড়–পিঠে ব্যথাকে অনেক সময় স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু এসব ব্যথার পেছনে থাকতে পারে গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক কারণ, যা অবহেলা করলে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে।
সারা দিনের দৌড়ঝাঁপ শেষে সন্ধ্যা নামলেই অনেক শিশু পায়ের ব্যথার অভিযোগ করে। কেউ কেউ কান্নাকাটিও শুরু করে। এই ব্যথাকে অনেক সময় গ্রোইং পেইন ভেবে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ শিশুদের শরীরব্যথার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।
শিশুদের ব্যথার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রোইং পেইন, বাতজ্বরজনিত জয়েন্ট ব্যথা, জুভেনাইল ইডিওপ্যাথিক আর্থ্রাইটিস, ভিটামিন ডি’র অভাব এবং দৈনন্দিন জীবনে অতিরিক্ত শারীরিক চাপ। বিশেষ করে তিন থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে গ্রোইং পেইন বা ‘বেড টাইম ব্যথা’ বেশি দেখা যায়। সাধারণত সন্ধ্যা বা রাতের শুরুতে এই ব্যথা শুরু হয় এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আর থাকে না। এই ব্যথা মূলত দুই উরু ও মাংসপেশিতে হয়, কখনো কখনো হাঁটুতেও ব্যথা অনুভূত হতে পারে। তবে সাধারণত এতে শিশুর হাঁটা-চলা বা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হয় না।
শিশুদের শরীরব্যথার আরেকটি অবহেলিত কারণ হলো ভারী স্কুলব্যাগ। স্কুলে যেতে শিশুদের ব্যাগে থাকে বই-খাতা, টিফিন বক্স, পানির বোতলসহ নানা জিনিস, ফলে ব্যাগ অতিরিক্ত ভারী হয়ে যায়। এই ভার বহনের ফলে অনেক শিশুর শরীর বাঁকা হয়ে যেতে পারে এবং পিঠ, ঘাড় বা হাঁটুর ব্যথার অভিযোগ দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কুলব্যাগের ওজন শিশুর শরীরের মোট ওজনের ১০ থেকে ১৫ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়। এর বেশি হলে মেরুদণ্ডে চাপ পড়ে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
মানুষের মেরুদণ্ডে রয়েছে পরপর সাজানো ৩৩টি কশেরুকা, যেগুলোর মাঝে নরম ডিস্ক থাকে। অতিরিক্ত ভার বহনের ফলে এসব ডিস্কে চাপ পড়ে এবং মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বক্রতা নষ্ট হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেনঃ
শিশুর ব্যথার সঙ্গে নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন—
১. সকালেও যদি ব্যথা না কমে বা সারা দিন ধরে তীব্র ব্যথা থাকে।
২. জয়েন্ট বা ব্যথার জায়গা ফুলে যাওয়া বা লাল হয়ে যাওয়া।
৩. কেবল একটি পা বা একটি হাতে ব্যথা হওয়া।
৪. ব্যথার সঙ্গে জ্বর বা শরীরে র্যাশ দেখা দেওয়া।
৫. শিশুর ওজন কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়া।
৬. ব্যথার কারণে ঠিকমতো হাঁটতে না পারা।
৭. ব্যথার সঙ্গে পা অবশ লাগা।
শিশুদের শরীরব্যথা করণীয়:
শিশুদের শরীরব্যথা কমাতে কিছু সাধারণ বিষয় মেনে চলা জরুরি। ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খাওয়াতে হবে। ব্যথার জায়গায় গরম সেঁক ও হালকা ম্যাসাজ উপকারী হতে পারে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি শিশুর স্কুলব্যাগের ওজন নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত বইপত্র বহন না করানো জরুরি।
শিশুর ব্যথাকে অবহেলা না করে সময়মতো সচেতন হলে তাদের সুস্থ বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
ড. মোঃ সফিউল্লাহ প্রধান
ডিজেবিলিটি ও রিহ্যাব বিশেষজ্ঞ, ডিপিআরসি
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
