হাঁটু ব্যথায় বিশেষজ্ঞের মতামত

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 736
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    736
    Shares

 হাঁটু ব্যথাঃ

হাজেরা বেগম এখন দাদী। নাতী নাতনি নিয়ে তিনি ভালই কাটাচ্ছেন, কিন্তু কিছু দিন যাবৎ তিনি নামাজ পরতে ও টয়লেট ব্যবহার করতে অসুবিধা বোধ করছেন কারণ উঠতে বসতে হাজেরা বেগমের হাটুতে ব্যথা হয় এবং মাঝে মাঝে ফুলে উঠে। জাহেরা বেগম এমন একটি হাড়ক্ষয় জনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন যাকে সাধারণ মানুষ হাটু ব্যথা বলে থাকে। আর চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে “অষ্টিওআথ্রাইটিস আব নি” বলা হয়। হাটু ব্যথা শুধু ক্ষয় জনিত রোগেই নয়, বিভিন্ন কারণে হাটু ব্যাথা হতে পারে। যেমন- রিউমাটয়েড আথ্রাইটিস, সেপটিক আথ্রাইটিস, গাউট, সোরিয়েটিক আথ্রাইটিস, এনকাইলজিং স্পন্ডাইলাইটিস, এসএলই ইত্যাদি। তবে সবচেয়ে বেশি হাটু ব্যথা সাধারণত অস্থিক্ষয়ের জন্যই হয়ে থাকে। জোড়ার ভিতর আঠালো এক প্রকার পদার্থ থাকে যাহা জোড়াকে নড়াচড়া করেত সহজ করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এই তরল পদার্থ শুকিয়ে গেলেও এই রোগ দেখা দেয। এ সমস্যা একদিনে তৈরী হয় না। অস্বাভাবিক ক্রিয়া বিক্রিয়ার ফলে আস্তে আস্তে রোগের প্রতিক্রিয়া লক্ষণ পায়। প্রাথমিক পর্যায়ে হালকা গরম হওয়া, ফুলে যাওয়া, ব্যথা হওয়া শুরু হয় এবং পরবর্তীতে হাটু নড়াচড়া করলে প্রচুর ব্যথা হয় রোগী নামাজ পড়তে, টয়লেট ব্যবহার করতে এবং দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা হয়। এভাবে চলতে থাকলে রোগী হাটুর কর্মক্ষমতা হাড়িয়ে হাটা চলাফেরা বন্ধ হয়ে যায়।

এছাড়া হাড় ও জোড়ার অন্যান্য রোগে, আঘাত পেলে, খেলোয়ারদের খেলাধুলার সময় ভূল অবস্থানের জন্য হাটুতে আঘাত পেলে বা মচকালে অনেক সময় কোমরের অসুবিধার জন্য হাটুতে ব্যথা হতে পারে। তরুনদের তুলনায় বয়স্কদের হাটু ব্যথা বেশী হয় এবং মহিলাদের সাধারনত ৪০ বৎসরের পর ঋতুচক্র বন্ধ হয়ে গেল হরমোনের তারতম্যের জন অস্থির কণিকা ক্ষয় প্রাপ্ত হয়ে এব রোগ দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসাঃ 

যেহেতু এ রোগের প্রধান কারণ ক্ষয়জনিত সমস্যা তাই এর প্রধান চিকিৎসা ফিজিওথেরাপি। অনেক ক্ষেত্রে ঔষধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা অনেক ফলদায়ক। বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকগণ রোগ নির্ণয়ের পাশাপিশি বিভিন্ন প্রকার চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তার মধ্যে শর্টওয়েভ ডায়াথার্মি, আল্ট্রোসাউন্ড, অতিলোহিত রশ্মি, ও বিভিন্ন প্রকার ব্যায়ামের মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এ সময় এমন কি সারা জীবন রোগিকে কিছু উপদেশ মানতে হয়। যেমন ডায়াবেটিস থাকলে নিয়ন্ত্রনে রাখা, শরীরের ওজন কমানো, উচু কমোড় বা পায়খানা ব্যবহার করা, হাটু গেড়ে না বসা, নিয়মিত চিকিৎসকের নির্দেশিত ব্যায়াম করা।

অনেক ক্ষেত্রে শল্য চিকিৎসার প্রয়োজন হলে, শল্য চিকিৎসার আগেও পরে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়।

আরও পড়ুনঃ জিমে না গিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ

 

ড. মোঃ সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগঃ-ডিপিআরসি হাসপাতাল( ২৯ প্রবাল হাউজিং,রিং-রোড,শ্যামলী,ঢাকা-১২০৭)
সিরিয়ালের জন্য ফোনঃ-  +8801997702001; +8801997702002
www.dprcbd.com
www.bdtodays.com
www.shafiullahprodhan.com
www.medicalbd.info
www.dhakatv.info

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four × 4 =