জেনে নিন- সামুদ্রিক মাছের পুষ্টিগুণ

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

সাধারণত সামুদ্রিক মাছের পুষ্টিগুণ মিঠা পানির মাছের তুলনায় অনেক গুণ বেশি। সামুদ্রিক মাছ উচ্চ-প্রোটিন সমৃদ্ধ, এবং এতে ক্ষতিকারক ফ্যাট নেই বললেই চলে যার কারণে এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। প্রজাতি ভেদে সামুদ্রিক মাছের স্বাদ ভিন্ন হয় কিন্তু পুষ্টিগুণ বিচারে সব সামুদ্রিক মাছই অনন্য। সামুদ্রিক মাছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ডি থাকে যা একাধিক জটিল রোগ থেকে আমাদেরকে  দূরে রাখে। সামুদ্রিক মাছ হার্ট-এটাক, স্ট্রোক, স্থুলতা এবং উচ্চ-রক্তচাপের ঝুঁকি কমায়। তো চলুন জেনে নিই সামুদ্রিক মাছের পুষ্টিগুণ ও নানাবিধ উপকারিতার কথাগুলো:

বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধিতে

শরীরে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে থাকলে ব্রেনের বিশেষ কিছু অংশের ক্ষমতা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝাইমারের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। তাই বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধিতে সামুদ্রিক মাছ খুবই উপকারি।

হৃদরোগ প্রতিরোধে

সামুদ্রিক মাছে রয়েছে ওমেগা-৩ নামক ফ্যাটি এসিড যা হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। এই ফ্যাটি এসিড হৃদরোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। বর্তমান সময়ে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ছে। তাই হৃদরোগ প্রতিরোধে সামুদ্রিক মাছ ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।

কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে

ভিটামিন এ ও ডি থাকে বেশিরভাগ সামুদ্রিক মাছে, যা কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই হৃদরোগে আক্রান্ত ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সামুদ্রিক মাছ খুবই উপকারী। যথাসাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করা উচিত সাধারণ পুকুরের বা নদ-নদী মাছের চেয়ে সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার।

ডায়াবেটিসে

ডায়াবেটিস রোগীরা খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ রাখতে পারেন। এতে তাদের এ রোগ নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হবে। তাছাড়া সামুদ্রিক মাছে থাকে আয়োডিন, সেলেনিয়াম, জিংক এবং পটাশিয়ামসহ অনেক অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান। থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের জন্যে আয়োডিন অত্যাবশ্যকীয়, এবং সেলেনিয়াম একধরণের এনজাইম তৈরি করে যা আমাদেরকে ক্যান্সারের হাত থেকে বাঁচায়। এ ছাড়াও সিলোনিয়াম শরীরে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং বার্ধক্য প্রতিরোধ করে।

জয়েন্ট পেইন দূর করতে

রিউমাটয়েড আর্থাইটিসে আমাদের অস্থিসন্ধীগুলো ব্যাথাসহ ফুলে যায়। রেগুলার সামুদ্রিক মাছ খেলে রিউমাটয়েড আর্থাইটিসের উপসর্গ কমে আসে।

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে

সামুদ্রিক মাছে প্রচুর পরিমানে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিট  থাকে। আর এই ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড রেটিনার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করার মধ্যে দিয়ে সার্বিকভাবে দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

রোগ প্রতিরোধে

সামুদ্রিক মাছ মানুষের দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে নানা রোগ থেকে রক্ষা করতে সক্ষম। এতে জিংক ও আয়োডিন আছে। জিংক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং আয়োডিন গলগণ্ড রোগ প্রতিরোধ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

4 × 2 =