কাশি যখন রক্তাক্ত!

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 190
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    190
    Shares

কাশি যখন রক্তাক্ত!

কাশির সাথে রক্ত, মেডিক্যালের ভাষায় একে হেমোপটাইসিস বলে। কাশির সাথে অল্প বা বেশি পরিমাণ রক্ত দেখা গেলে তার সঠিক ইতিহাস জানা এবং অন্তর্নিহিত কারণ বের করা প্রয়োজন। ধূমপানজনিত কারণে কাশি, প্রথম শুকনো পরে হঠাৎ করে কাশির প্রকৃতি পরিবর্তন এবং তার সাথে রক্ত ক্রমাগত বেড়ে যায়, শিল্পকারখানায় কাজের ইতিহাস, দীর্ঘদিনের ধূমপানের ইতিহাস ফুসফুসে ক্যান্সার সন্দেহ করা হয়।

দীর্ঘদিনের কাশি, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রচুর কাশি, সাথে প্রচুর রক্ত যাওয়া, আগে কোনো ফুসফুসে প্রদাহ বা যক্ষ্মা রোগ, শ্বাসনালীতে ফরেন বডি (শিমের বিচি, পুঁতির দানা, ছোট পয়সা ইত্যাদি) ঢুকে যাওয়ার ইতিহাস থাকলে এবং ব্রংকিয়োকটেসিসজনিত কারণে হতে পারে।

অল্প অল্প জ্বর, বিকেলের দিকে জ্বর, রাতে গা ঘামানো, খাবারে অরুচি, ধীরে ধীরে শরীর শুকিয়ে যাওয়া, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস, যক্ষ্মা রোগীর কাছে বেশি সময় থাকা, এক কক্ষে গাদাগাদি করে থাকার কারণে অনুমান করা হয় যক্ষা রোগ হয়েছে। খুব বেশি জ্বর, কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, সাথে বুকে ব্যাথা, কাশির সাথে মরিচা রঙের কফ হলে সন্দেহ করা হয় তার নিউমোনিয়া হয়েছে।

কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, রক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত কাশি হলে ফুসফুসে ফোড়া হয়েছে সন্দেহ করা হয়।

হঠাৎ করে কাশির সাথে রক্ত আসা, বুকে ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট হলে পালমোনারি অ্যাম্বলিজম সন্দেহ করা হয়। বুক ধড়ফড় করা, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়া, ছোটবেলা থেকে বাতজ্বর হওয়ার ইতিহাস থাকে তাহলে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়।

হঠাৎ বুকে ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট হয়ো, কাশির সাথে রক্ত যাওয়া, আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলেও Heart Attack হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। অন্যান্য কারণেও কাশির সাথে রক্ত যেতে পারে, যেমন- বুকে আঘাতজনিত কারণে। বিভিন্ন ধরনের ভাসকুলাইটিস, যেমন- পালমোনারি শিরা-ধমনির জটিলতা। রক্তের বিভিন্ন ধরণের রোগের কারণ, যেমন- হেমোফিলিয়া। ওষুধের কারণে যেমন- ওয়ারফেরিন, ব্যাথানাশক ওষুধ (NSAIDs)। প্রথমে কাশির সাথে রক্ত, বমির সাথে নাকি নাক-কান ও গলার কোনো কারণে রক্ত যায় তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হবে। অনেক সময় গলা খাঁকারি দিয়ে রক্ত আসতে পারে। এজন্য রোগীর কাছ থেকে বিস্তারিত ইতিহাস জানতে হবে। যেমন- নাক দিয়ে রক্ত আসা, গলা ফ্যাঁস ফ্যাঁস হয়ে যাওয়া, মুখে যদি ঘা থাকে তাহলে সন্দেহ হবে যে শ্বাসনালীর ওপর অংশ থেকে রক্ত বের হচ্ছে। যেমন- সাইনোসাইটিস।

আরও পড়ুনঃ হাঁপানি রোগী মারা যায় কেন ?

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

19 + 4 =